এগ ম্যাগনোলিয়া যেন জ্বলন্ত মশাল।
সুগন্ধি এগ ম্যাগনোলিয়া ফুলের পূর্ণাঙ্গ কলির গড়ন ঠিক এগ (বমম) বা ডিমের মতো দেখায়। এ জন্যই ফুলটির এমন নাম। গাছটি চিরসবুজ জাতের। ফুলের গাছ হিসেবে আকারে মাঝারি ধরনের, ঝোপালো।
এগ ম্যাগনোলিয়া ফুল দেখতে অনেকটা স্বর্ণচাঁপার মতো। তবে আকারে চাঁপা ফুলের চেয়ে বড়। পাপড়িগুলোও আরেকটু মোটা। রং ছাড়া কিছুটা মিল রয়েছে জহুরিচাঁপা ফুলের সঙ্গে।
এ ফুলের গাছ তিন-চার ফুটের মতো উঁচু হয়। পাতা আট-নয় ইঞ্চি লম্বা এবং চার ইঞ্চির মতো চওড়া।
এগ ম্যাগনোলিয়া বহু বর্ষজীবী উদ্ভিদ। একবার চারা লাগিয়ে দিলে বছরের পর বছর ফুল দিয়ে যায়।
এ ফুল ফুটতে শুরু করে শীতের সময়। শরতে গিয়ে ফুলের বাহার যেন উপচে পড়ে। গাছের আগার সবুজ কলি কয়েক দিনের মধ্যেই হালকা হলুদ রং নেয়। ফুল পুরো ফুটলে হয় গাঢ় হলুদ। তখন দেখে মনে হতে পারে, গাছের পাতায় যেন ঝুলছে খুদে আলোর মশাল।
এগ ম্যাগনোলিয়া ইন্দোমালয়ান অঞ্চলের ফুল। পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে ইন্দোমালয়ান জীবভৌগোলিক অঞ্চলটির বিস্তার। আমাদের আবহাওয়ায় ফুলটি ভালোই হয়। তবে এর দেখা মেলে কম। ঢাকার ওয়ারী এলাকার ঐতিহ্যবাহী বলধা বাগানের ‘সিবিলি’ অংশে রয়েছে কয়েকটি এগ ম্যাগনোলিয়ার গাছ।
জানা মতে, এগ ম্যাগনোলিয়ার সর্বজনগ্রাহ্য বা পরিচিত বাংলা নাম নেই। রঙের ভিত্তিতে একে ডাকা যেতে পারে ‘অগ্নিচাঁপা’ নামে। তবে নাম যাই হোক, ফুল তো ফুটবেই, সুগন্ধও বিলিয়ে যাবে আপন মনে। প্রসঙ্গত, ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম Magnolia liliifera.
এগ ম্যাগনোলিয়া ফুলের সৌন্দর্যের মতো এর সুগন্ধও মনকাড়া। ফুল ফুটলে অনেক দূর পর্যন্ত সুঘ্রাণ ছড়ায়। ফুলটির আদি নিবাস ভারতবর্ষ। ভারতের আসাম, মণিপুর ও সিকিম রাজ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
Source: কালের কণ্ঠ
