কোন অপরাধে প্লুটো সেদিন নিজের গ্রহ মর্যাদা হারিয়েছিলো?
আমাদের সৌরজগতের মধ্যে ছড়ানো ছিটানো আছে অসংখ্য মহাজাগতিক বস্তু। তাদের মধ্যে কোন গুলোকে গ্রহ বলা যাবে এইনিয়ে জ্যোতির্বিদদের মধ্যে মতবাদ লেগেই থাকতো।
এই অবস্থার অবসানের জন্য ২০০৬ সালে ২৪ আগষ্ট জ্যোতির্বিদদের একটি সম্মেলনে IAU resolution অনুযায়ী গ্রহের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই শর্তপত্রের আওতায় সৌরজগতের যেকোনো বস্তুকে গ্রহের মর্যাদা পেতে হলে তিনটি শর্ত পূরন করতে হবে৷
যেমন :
১. একে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে হবে অর্থাৎ তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে হবে।
২. একে যথেষ্ট পরিমান ভারী হতে হবে যেন নিজের মাধ্যাকর্ষণের টানে এটি গোলাকার ধারন করতে পারে। মোট কথা এটিকে গোলাকার এবং পূর্নাঙ্গ ঘটনের অধিকারী হতে হবে।
৩. এটি যে কক্ষপথে সূর্যের চার পাশে ঘুরবে সেই কক্ষপথটি অন্যান্য গ্রহের কক্ষপথ হতে আলাদা হতে হবে। যদি দুটি বস্তুর কক্ষপথ একই হয় তাহলে সেই কক্ষপথে থাকা বেশি ভারী বস্তুকেই গ্রহের মর্যাদা দেয়া হবে।
প্লুটো এই তিনটি শর্তের মধ্যে তৃতীয়টি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। প্লুটোর কক্ষপথ স্বতন্ত্র নয়। বরং এটি এর নিজ কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় কখনো কখনো নেপচুনের কক্ষপথে ঢুকে পরে। আর তখন নেপচুনের চেয়েও প্লুটো সূর্যের কাছে চলে আসে। কিন্তু নেপচুন আকারে সুবিশাল, প্লুটো সেই তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র। আর তাই তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী প্লুটো তার গ্রহ মর্যাদা হারায় এবং বামুন গ্রহের তালিকায় নিজের নাম লেখায়।
নিউ হরাইজন্স মহাকাশযান থেকে পাঠানো বামন গ্রহ প্লুটোর এই ছবি গুলোই এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিস্তারিত।
